বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ শুল্কনীতির পরিবর্তনের আশঙ্কায় এক বছরে দেশটিতে তামার মজুদ অনেক বেড়েছে। ওয়ার্ল্ড ব্যুরো অব মেটাল স্ট্যাটিস্টিকসের (ডব্লিউবিএমএস) তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র মোট ১৪ লাখ টন পরিশোধিত তামা আমদানি করেছে। এ আমদানির পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৭ লাখ ৩০ হাজার টন বেশি। খবর রয়টার্স।
আমদানীকৃত এ বড় পরিমাণ তামা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গুদামে জমা হচ্ছে। গত বছর সিএমই এক্সচেঞ্জে তামার মজুদ বেড়েছে ৪ লাখ ৫২ হাজার টন। ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এ মজুদে আরো ৯৩ হাজার টন তামা যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে সরবরাহের একটি বড় অংশ বাল্টিমোর ও নিউ অরলিন্সের এলএমই নিবন্ধিত গুদামে সরিয়ে নিচ্ছেন আমদানিকারকরা। সিএমই ও এলএমইতে তামার দামের পার্থক্যের কারণে আমদানিকারকরা এ কৌশল নিচ্ছেন বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
তামা আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য শুল্কনীতি বড় ভূমিকা রাখছে। হোয়াইট হাউজ ২০২৭ সালের শুরু থেকে পরিশোধিত তামা আমদানির ওপর বড় অংকের শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে।
এ শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগেই কম দামে তামা মজুদ করে রাখার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন আমদানিকারকরা। এতে কোনো সরকারি খরচ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে তামার শক্তিশালী ‘কৌশলগত মজুদ’ গড়ে উঠেছে। এদিকে তামা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পণ্যের ওপর এরই মধ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় সুবিধা পেতে শুরু করেছেন মার্কিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানরা।
পরিশোধিত তামা আমদানিতে রেকর্ড গড়লেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তামা বর্জ্য বা স্ক্র্যাপ রফতানি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে মার্কিন প্রশাসন। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১০ লাখ টনের বেশি তামা বর্জ্য রফতানি হয়েছে, যার প্রধান গন্তব্য ছিল চীন। দেশের ভেতরে তামা পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ (রিসাইক্লিং) সক্ষমতা বাড়াতে অন্তত ২৫ শতাংশ উচ্চমানের স্ক্র্যাপ দেশে রাখার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে এ ধরনের বিধিনিষেধ দীর্ঘমেয়াদে বাজারের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে।